আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: গত (২৪শে মে) বাহরাইনের গণ বিপ্লবের ১০০ তম দিবস পূর্তী উপলক্ষে বার্তা সংস্থা আবনা ও ইসলামিক স্ট্যাডিজ সংস্থার সহযোগিতায় উলুম ওয়া আন্দিশেয়ে সিয়াসী গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে এবং কোমের ইসলামি প্রচারণা কার্যালয়ের মিলনায়তনে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সম্মেলনে আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আখতারী বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ নিম্নে উল্লেখ করা হল।
আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব শুরুতেই হযরত ফাতেমা যাহরা (সা. আ.) এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে উপস্থিত শ্রোতাদেরকে অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানিয়ে এ ধরণের সম্মেলনের আয়োজন অতীব জরুরী বলে আখ্যায়িত করে বলেন: আমাদের সকলের উপর বিশেষ করে হাওযা ইলমিয়া কোমের উপর যে মৌলিক দায়িত্ব রয়েছে তা হল, মুসলিম বিশ্বের ঘটমান বিষয়াবলি সম্পর্কে অবগত থাকা। যাতে এর মাধ্যমে ঘটমান ঘটনার সঠিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে চিনে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া যায়।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আখতারী, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা (স.) এর এ হাদীসের –‘যদি কেউ কোন মুসলমানকে সমস্যা জর্জরিত অবস্থায় দেখে এবং তার ফরিয়াদ শোনে, কিন্তু তার সাহায্য করে না, তবে সে মুসলমান নয়’- প্রতি ইশারা করে বলেন: কোন ঘটনাকে সঠিকভাবে অনুধাবন করা অবগতি ও অন্তর্দৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। আর এর মাধ্যমেই মানুষ পৃথিবীতে যা কিছু ঘটছে তা সম্পর্কে অবগত হয় এবং নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে।
ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতার কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের সাবেক প্রধান বলেন: মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনার উপর সবচেয়ে সুক্ষ্ম বিশ্লেষণ মহান রাহবারের জুমার খোতবাগুলোতে আমরা শুনতে পাই, যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন: এ গণজাগরণের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের ভিত্তিতে অনেকে একে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে এবং এ জাগরণ সামাজিক, অর্থনৈতিক কারণে উত্সারিত হয়েছে বলে এর মূল্য ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। যদিও এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক জাগরণের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলাম ও ধর্ম।
তিনি বাহরাইনের জনগণের বিক্ষোভ মিছিল স্বতঃস্ফূর্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন: বাহরাইনের জনগণ এমনকি ফিলিস্তিনের গণ অভ্যূত্থানে এদেশের জনগণের ন্যায় একটি পাথরও নিক্ষেপ করেনি। কোন কাঁচ ভাঙ্গেনি, কোন দপ্তর বা পুলিশের উপরও হামলা চালায়নি, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এমনকি সামরিক দিক থেকে সৌদি আরব এদেশের সৈন্য পাঠিয়েছে।
হুজ্জাতুল ইসলাম আখতারী প্রচার মাধ্যমসমূহের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন: প্রচার মাধ্যমসমূহ বাহরাইনের বিষয়ে এমন আচরণ করেছে যে, বিশ্ব মাণচিত্রে বাহরাইন যেন নামে কোন দেশই নেই অথবা এদেশে কোন গণ গণবিপ্লবই হয়নি।
তিনি আরো বলেন: সাম্রাজ্যবাদী দেশসমূহের দৃষ্টিতে বাহরাইনের গণ বিপ্লবকে, এক প্রকার সরকার বিরোধী বিদ্রোহ বলে দেখা হচ্ছে, যা সরকারের পক্ষ হতে দমন করা হচ্ছে। অপরদিকে মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থাসমূহ এমনকি রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মত আন্তর্জাতিক সংস্থাও বাহরাইনের জনগণকে রক্ষার্থে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব তিউনিশিয়া, মিসর, ইয়েমেন ও বাহরাইনের গণ আন্দোলন ধর্ম ভিত্তিক বলে আখ্যায়িত করে বলেন: এ সকল আন্দোলন ধর্ম ভিত্তিক হওয়ার কারণে সাম্রাজ্যবাদীদের ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আখতারী বাহরাইনের গণ আন্দোলনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন: বাহরাইন, ইরানে ইসলামি বিপ্লবের সময় হতে বিভিন্ন ইসলামি জাগরণের সাক্ষী রয়েছে। বাহরাইনের সাম্প্রতিক গণ আন্দোলন ঐ সকল ইসলামি জাগরণেরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন: বাহরাইনের গণ বিপ্লবের শ্লোগানগুলোও ইরানের ইসলামি বিপ্লব ও ইমাম খোমেনী (রহ.) এর চিন্তাধারা হতে গৃহিত।
তিনি তাড়াতাড়ী বা দেরীতেও হলেও বাহরাইনের গণজাগরণের বিজয় নিশ্চিত বলে আখ্যায়িত করে বলেন: যদিও এ গণজাগরণ এক পর্যায়ে বিভিন্ন চাপের মুখে পড়ে ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে দূর্বল এবং এর গতি ধীর হয়ে যায়; কিন্তু এটা জানতে হবে যে, এ জাগরণ শেষ হবে না এবং বাহরাইনের জনগণ বিজয়ী হবে কেননা তারা মহান আল্লাহর জন্য উঠে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য হল ধর্ম, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা।
তিনি আরো বলেন: আলে খলিফা যে সকল অপরাধকর্ম আঞ্জাম দিয়েছে, তার কারণে এদেশের কমপক্ষে শতকরা ৭০ ভাগ জনগণের মনে কোন স্থান পাবে না এবং পরিণতিতে ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।
হুজ্জাতুল ইসলাম আখতারী বলেন: আলে সউদ ও আলে খলিফার জানা উচিত যে, তাদের কাজের সমাপ্তি এখানে ঘটবে। তারা, আলে খলিফার পতন ও এ গণজাগরণের জোয়ার মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে প্রবেশ করা -বিশেষতঃ সৌদি আরবে- এবং ফলশ্রুতিতে আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারীদের বিজয়ের ভয়ে শঙ্কিত।
তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক আফগানিস্তান দখলের ব্যাপারে ইমাম খোমেনী (রহ.) এর মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে বলেন: যখন আলে সউদ বাহরাইনের প্রবেশ করেছিল তখন ইসলামি বিপ্লবের নেতা বলেছিলেন, সৌদি আরব সোভিয়েত ইউনিয়নের মত একই ভুল করেছে এবং তাদের পরিণতিও সোভিয়েত ইউনিয়নের মতই হবে অর্থাৎ ধ্বংস।#